২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেওয়া তার আবেগঘন বক্তব্য এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, বিশ্বের কোনো প্রান্তে যদি এমন কেউ থাকেন যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্টে ব্যথিত হন না, তাহলে তিনি প্রকৃত অর্থে মানবিক নন। মানুষ হিসেবে নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবেগঘন কণ্ঠে মিসরের এই কোচ বলেন, পৃথিবীর কোথাও কোনো প্রাণীর ক্ষতি হলেও মানুষ প্রতিবাদ করে। অথচ ফিলিস্তিনে প্রতিদিন নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্ব বিবেক অনেক ক্ষেত্রেই নীরব। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
ফুটবলকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে হোসাম হাসান বলেন, ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম বড় মাধ্যম। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনিদের শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে সবাই যেন মানবিক অবস্থান গ্রহণ করেন।
এর আগেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করতে দেখা গিয়েছিল হোসাম হাসানকে। সেই ঘটনার পর এবার সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব কোচের এই অবস্থানের প্রশংসা করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লাখো মানুষ তার বক্তব্যকে মানবতার পক্ষে সাহসী অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে হোসাম হাসানের এই বক্তব্য কেবল ফুটবল নয়, মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
বক্তব্যের শেষদিকে ফিফার ‘রেসপেক্ট অ্যান্ড ফেয়ার প্লে’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হোসাম হাসান বলেন, মাঠে যেমন ন্যায়বিচার চাই, তেমনি বাস্তব জীবনেও মানুষের জীবন ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখতে চাই।
Leave a Reply