1. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  2. admin@channelgbangla.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্ব ফের তীব্র, নতুন সংঘাতের নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বুধবার ভোরে ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। নতুন এই উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের কথিত হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

হামলার পর ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক কার্যত শেষ হয়ে গেছে। যদিও আলোচকরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এটিকে সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়ে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে দরপতন এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের উৎসই ভবিষ্যতে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক ছাড়ও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও উপসাগরীয় দেশগুলো উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে। মধ্যপ্রাচ্য আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক পথেই সমাধান হবে—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost