1. jewelislambln78@gmail.com : জুয়েল হোসেন : জুয়েল হোসেন
  2. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  3. admin@channelgbangla.com : admin :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

সৌদি আরবে মতলবের প্রবাসীকে হত্যার অভিযোগ মরুভূমিতে বালুচাপা মরদেহ, স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি

দেওয়ান মুরাদুজ্জামান,মতলব
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

 

সৌদি আরবে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। দেশটির আল কাসিম এলাকার একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে জসিমকে হত্যা করে মরদেহ মরুভূমিতে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
নিহত জসিম উদ্দিন উপজেলার ঘাশিরচর গ্রামের আয়্যুব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুমা আক্তার ও তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০০৪ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান জসিম। ২০০৭ সালের ১৫ অক্টোবর মতলবের গজরা এলাকার মিয়াবাড়ির আবুল কাশেমের মেয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আকামা নবায়ন করতে পারেননি তিনি। পরিবারের দাবি, ২০২৩ সাল থেকে তিনি অবৈধভাবে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।
সর্বশেষ তিনি আল কাসিমের আল গাম্মাস এলাকার একটি মাজরায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। জসিম যে কক্ষে থাকতেন, সেখানে আরও দুই বাংলাদেশি শ্রমিক ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে ‘বড় সাব্বির’ নামে পরিচিত এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হন জসিম। কিছু দূর যাওয়ার পর টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে জসিম মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, জসিমের মরদেহ পাশের মরুভূমিতে বালুর নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়। তাঁর মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ওই মোবাইল ব্যবহার করে পরিবারের কাছে অপহরণের কথা জানিয়ে টাকা দাবি করা হয়। প্রথমে প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁর আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি ফোন করে জসিমের স্ত্রীকে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরে সৌদি আরবে থাকা জসিমের সহকর্মী জাকির বকাউল ওরফে ‘ছোট সাব্বিরের’ সঙ্গে যোগাযোগ করেন রুমা আক্তার। তাঁর কাছ থেকেই মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন বলে পরিবারের দাবি।
ছোট সাব্বিরের ভাষ্য, কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক পাশের মাজরায় যাওয়ার সময় বালুর ওপর মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় জসিমের পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
তবে সৌদি আরবের পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তারের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost