চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওটারচর গ্রামে আবাসিক এলাকার মধ্যে বিতর্কিত জমিতে গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আপত্তি দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে পারুল আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করে গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, ছেংগারচর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওটারচর গ্রামে পালালোকদী মৌজার বিএস দাগ নম্বর ৫৯৪০-এর একটি জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ওই জায়গার সিএস ও আরএস রেকর্ড নেই এবং জায়গাটি বিতর্কিত। সেখানে কতিপয় ব্যক্তি সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রস্তাবিত স্থানটি ওটারচর গ্রামের আবাসিক এলাকার মধ্যে হওয়ায় সেখানে গণকবরস্থান নির্মাণ করা হলে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক বসবাস ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জমিটির মালিকানা ও রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আবেদনকারী পারুল আক্তার বলেন, আমরা কোনো বিরোধ সৃষ্টি করতে চাই না। জায়গাটি নিয়ে যেহেতু বিতর্ক রয়েছে এবং এটি আবাসিক এলাকার মধ্যে, তাই বিষয়টি তদন্ত করে আইন ও বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া যেন সেখানে কোনো নির্মাণকাজ না হয়, সেটিই আমাদের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আবাসিক এলাকার মধ্যে কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তাদের ভাষ্য, কবরস্থান নির্মাণের আগে জায়গার মালিকানা, রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে গণকবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে মো. শফিক ও মো. মুকুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। লিখিত আবেদনটি দেখে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা হবে। জায়গাটির রেকর্ড, মালিকানা ও প্রস্তাবিত স্থাপনার অনুমোদনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি নির্ধারণ এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে তা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
Leave a Reply