রোহিঙ্গা শিশু অপহরণের ঘটনায় মুক্তিপণ দাবিকারী সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের মূলহোতাকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ, কক্সবাজার।
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ এলাকার ০৫ (পাঁচ) বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু রহমত আলী, পিতা- মোঃ জুনায়েদ, মাতা- পারমিন আরা-কে গত ২২/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র অপহরণ করে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা শিশুটিকে জিম্মি করে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করে, যা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। একইসঙ্গে তারা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিমের পরিবার শিশুটির জীবন নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করে নিজ উদ্যোগে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একাধিক আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ অপহরণকারীদের অবস্থানের নিকটবর্তী হলে তারা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অদ্য ২৯/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ, রাত ০২:৩০ ঘটিকায় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মোঃ জাকারিয়া প্রকাশ জকরিয়া (৩৭), পিতা- সাইফুল ইসলাম, মাতা- হামিদা বেগম, থানা- উখিয়া, জেলা- কক্সবাজারকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিম শিশু রহমত আলীকে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি তার সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় শিশু ও অন্যান্য ব্যক্তিকে অপহরণপূর্বক জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ এবং বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত শিশুটি তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply