শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকায় পদ্মা নদীতে ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল (বালু) অপসারণ কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের প্রোপ্রাইটর ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি কার্যাদেশ ও নির্ধারিত শর্ত মেনেই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এ কার্যক্রমকে ‘অবৈধ বালু উত্তোলন’ হিসেবে প্রচার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরিকল্পনাহীনভাবে পদ্মা নদীর মাঝখানে ডুবোচরে স্তূপাকারে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নদীর উভয় তীরে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন,
তিনি জানান, ওই ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের জন্য ২০২১ সালে ১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট এবং ২০২৩ সালে ২০ লাখ ঘনফুটসহ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট অপসারণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় এ কার্যক্রম নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।
রয়েল মাঝি বলেন, নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুনরায় অবশিষ্ট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের উদ্যোগ নেয়। তিনি দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ১০ কোটি ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের কার্যাদেশ পান এবং সরকারি নিয়ম মেনে কাজ শুরু করেন।
তার অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাতে থাকে। ঈদের আগে ও পরে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, নদীর তীব্র স্রোত, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং অপপ্রচারের কারণে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হন। তিনি জানান, কার্যাদেশের মেয়াদ ৯ মাস হলেও বাস্তবে মাত্র ৫ মাস কাজ করতে পেরেছেন। এ সময়ে তিনি ৫ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করেন।
পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক বৈঠকের পর প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ৭ মে পুনরায় কাজ শুরুর অনুমতি পান। এরপরও পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন,
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি ২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করেছি। এখনও ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৩০ ঘনফুট অপসারণ বাকি রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি ড্রেজার ও যন্ত্রপাতির জন্য বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করেছেন। ধারাবাহিক অপপ্রচারের কারণে তিনি ব্যবসায়িক, সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, “যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপপ্রচারের প্রতিকার এবং বৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত না করেন, তাহলে আমি অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হব। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হব এবং যারা মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠান অতীতে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। তিনি প্রকল্পসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সরকারি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার আহ্বান জানান।
Leave a Reply