দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ঋণের বোঝাও। উচ্চ সুদ, বিলম্ব ফি এবং নানা ধরনের চার্জের কারণে অনেক গ্রাহক এখন ঋণের চাপে দিশেহারা। নতুন অর্থবছরের বাজেটেও ক্রেডিট কার্ড-সংক্রান্ত কিছু পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, সময়মতো পুরো বিল পরিশোধ করতে না পারলে সুদের ওপর সুদ এবং অতিরিক্ত চার্জ যোগ হয়ে ঋণের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে অল্প টাকার ঋণও কয়েক বছরের ব্যবধানে অনেক বড় অঙ্কে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন,
এমনই একজন ভুক্তভোগী জানান, তিনি প্রয়োজনের সময় ৬০ হাজার টাকা ক্রেডিট কার্ড থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তিন বছরে কিস্তি, সুদ ও বিভিন্ন চার্জ পরিশোধ করতে গিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকার মতো আদায় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, এই ঋণ শুধু আর্থিক চাপই নয়, মানসিক চাপও বাড়িয়েছে।অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্রেডিট কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা হলেও এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।একই সঙ্গে সুদের হার, চার্জ এবং ঋণ আদায় ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।
আরও পড়ুন,
এদিকে অনেক সাধারণ মানুষ মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। তাদের মতে, ধনী ও গরিবের আয়ের বৈষম্যও বাড়ছে। তাই নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আর্থিক খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এখন প্রশ্ন একটাই—ক্রেডিট কার্ড কি মানুষের আর্থিক সহায়ক হয়ে থাকবে, নাকি নিয়ন্ত্রণহীন সুদ ও চার্জের কারণে আরও বড় ঋণের ফাঁদে পরিণত হবে? সেই উত্তরই এখন জানতে চায় দেশের লাখো গ্রাহক।
Leave a Reply