ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ভয়াবহ এ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ফলে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তাইমুর তিকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি সরানো না পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে কিয়েভে রাশিয়ার চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানিয়েছেন, হামলায় রাশিয়া ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উড়ে আসায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি।
হামলায় কিয়েভের একটি আবাসিক এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়ে। দিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী একটি এলাকা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ভবনের অন্তত আটজন বাসিন্দা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রুশ হামলায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রসের ইউক্রেন শাখার একটি ত্রাণ গুদামও ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গুদামে থাকা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে।
হামলার সময় কিয়েভে অবস্থান করছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেনবিষয়ক দূত কাতারিনা মাথেরনোভা। তিনি বলেন, “রাশিয়া কিয়েভের ওপর যেন নরক নামিয়ে এনেছে।”
এদিকে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আগুন লাগার পর তিনি ও তার স্বামী প্রতিবেশীদের নিরাপদে বের করে আনতে চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের নিজের বাসাটিই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
রাশিয়ার এই ব্যাপক হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।
Leave a Reply