২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে বড় চমক দেখিয়েছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। গ্রুপ ‘জি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মোহামেদ সালাহর দল। এই জয়ে বেলজিয়ামকে পেছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষেও উঠে এসেছে মিশর।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মিশরের জন্য সুখকর ছিল না। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই কর্নার থেকে হেড করে গোল করেন নিউজিল্যান্ডের ফিন সারম্যান। সেই গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে কিউইরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বপ্ন তখন দেখছিল নিউজিল্যান্ড।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে মিশর। অবশেষে সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। তার নেওয়া শট গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রকম্বে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বল তার হাত ফসকে জালে ঢুকে যায়। ফলে ম্যাচে ফিরে আসে মিশর।
সমতা ফেরানোর পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। এরপর মঞ্চে আসেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহামেদ সালাহ। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই ডিফেন্ডারের কড়া পাহারায় থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। মোস্তাফা জিকোর দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান সালাহ। তাতেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় নিউজিল্যান্ড। তবে মিশরের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাহমুদ হাসান ত্রেজেগে। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নিজের তৃতীয় বল স্পর্শে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। তার গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই পায়নি মিশর, গড়েছে ইতিহাসও। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে দুই গোল করলেও জয় পায়নি তারা। এরপর দীর্ঘ ৯২ বছর বিশ্বকাপ খেলেও এক ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করতে পারেনি মিশর। অবশেষে সালাহ, জিকো ও ত্রেজেগের গোলে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
দুই ম্যাচ শেষে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে গ্রুপ ‘জি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের নকআউট পর্বে ওঠার আশা এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
Leave a Reply