দেশের অন্যতম আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার ১৪ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি তদন্ত। আবারও পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন।
আজ ছিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ। তবে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, এই নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো ১২৭ বার। যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আজিজুল হক আদালতে তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ৭০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগগিরই তদন্ত শেষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
তবে সেই আশার বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় আদালতও এর আগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছ থেকে সরিয়ে পিবিআইকে দেয়। এরপর নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি এবং এরপর র্যাব দীর্ঘ সময় তদন্ত করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন জামিনে রয়েছেন এবং বাকিরা কারাগারে আছেন।
বহু বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় নিহতদের পরিবার, সহকর্মী ও দেশের সাংবাদিক সমাজ এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
Leave a Reply