দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের উদ্দেশ্যে হামলা,মারধর,নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ জহুরুল ইসলাম বিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত মোঃ জাকির হাসান জেমি তার মেয়ে জামাই এবং গোলজার হোসেন তার শ্বশুর। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী,গত ৯ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে তার দোকানের ম্যানেজার ফিরোজ রাতের খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিরামপুর ঢাকা মোড় এলাকায় অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। এ সময় তার ব্যবহৃত হিরো এইচএফ ডিলাক্স ১০০ সিসি মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ম্যানেজার মোবাইল ফোনে মালিককে খবর দিতে চাইলে অভিযোগ অনুযায়ী তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জহুরুল ইসলাম অভিযোগে আরও বলেন, দোকানে চিৎকার চেঁচামেচির খবর পেয়ে তিনি দুইটি দোকানের ক্যাশে থাকা সারাদিনের ব্যবসার মোট এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি অভিযুক্তদের মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং বিষয়টি থানায় বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান।
আরও পড়ুন,
তার দাবি, এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানঘর তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়,তাকে বুকে লাথি মেরে প্রধান সড়কে ফেলে দেওয়া হয় এবং মাথা ও বুকে আঘাত করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছে থাকা এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে অভিযুক্তরা পুনরায় বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় দোকানের ম্যানেজার ও পরিবারের সদস্যরা তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসার কাগজপত্রও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ভুক্তভোগীর দাবি, চিকিৎসা গ্রহণ,পারিবারিক আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদি অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হয়,তবে এটি কেবল একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা নয়,বরং আইন শৃঙ্খলা,ব্যবসায়িক নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পদের সুরক্ষার ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।
আরও পড়ুন,
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্য দিকে,অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। এ ব্যাপারে বিরামপুর থানার তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
Leave a Reply