1. 01404006688bd@gmail.com : জুলিয়া জাহান : জুলিয়া জাহান
  2. admin@channelgbangla.com : admin :
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

কালিগঞ্জ আমিয়ান স্কুলে দুই শিক্ষিকার দ্বন্দ্ব-সংঘাতে হুমকির মুখে শিক্ষা কার্যক্রম

আজহারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী আমিয়ান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে। স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে স্কুল মুখি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা। স্কুলের দুই শিক্ষিকার দীর্ঘদিনের চলমান দ্বন্দ্ব- সংঘাত ও অনিয়মের কারণে করুণ দশায় পরিণত হয়েছে স্কুলটি।
সরেজমিনে স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, আমিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুচিত্রা এবং সহকারী শিক্ষিকা তহুরা খাতুনের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত দীর্ঘদিনের। প্রায় প্রতিদিন তারা স্কুলে এসে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি গালিগালাজ করতে করতে দুই শিক্ষিকা চুল টানাটানি বা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এমন ঘৃণিত কর্মকাণ্ড দুই-একদিনের নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান। প্রধান শিক্ষিকা সুচিত্রা সেন ও সহকারী শিক্ষিকা তহুরা খাতুনের এহেন ঘৃণিত কর্মকাণ্ডে দূষিত হয়ে উঠেছে স্কুলের পরিবেশ।
স্থানীয় ও অভিভাবকদের মধ্যে এবাদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, নজরুল ও জাকির হোসেনসহ অনেকেই জানান, সুচিত্রা সেন, মানসী সরকার ও তহুরা খাতুনের কারণেই আজ স্কুলটা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সরকারি বাজেট বা বরাদ্দের অর্থ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্কুলে কোন উন্নতি হয় না। সবই দুই তিন শিক্ষিকা মিলে ভাগ বাটোয়ারা করে খায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া গ্রাম্য ঝগড়াটে মহিলাদের মত স্কুলে এদের আচরণ। যে কারণে এই স্কুলে তারা তাদের শিশুদের আসতে না দিয়ে দূরের অন্যান্য স্কুলে নিয়ে যান। তাদের এই ঝগড়াঝাঁটির মধ্যে শিশুদেরকে কারণে অকারণে বেদম প্রহর করে ওই অভিযুক্ত শিক্ষিকা। ইতিপূর্বে শিশুদের এই মারধরের প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে ওই শিশুর অভিভাবকদের। আর এসব কারণেই
স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা সুচিত্রা সেন বলেন, আমি স্কুল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এখানে আছি। আমার দ্বারা অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি। সহকারী শিক্ষিকা তহুরা খাতুন প্রতিদিন আমার সাথে ঝগড়া করে আর পরিবেশ নষ্ট হয়।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষিকা তহুরা খাতুন বলেন, প্রধান শিক্ষিকার অনিয়ম দুর্নীতির কথা বলতে গেলেই সে আমাকে মারতে আসে। সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। শিশুদের মারধর ও অনিয়ম-দূর্নীতিতে প্রধান শিক্ষিকার সহযোগি হিসেবে কাজ করে স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মানসী সরকার বলে অভিযোগ করেন তহুরা খাতুন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগে আরো জানা যায়, বরাদ্দকৃত অর্থ অনিয়ম-দুর্নীতি এবং শিক্ষিকাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাতের এ বিষয়ে ইতিপূর্বে ২-৩ বার কালিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সহকারী শিক্ষা অফিসার তদন্তে এসেছেন। কিন্তু স্কুলের অভিযুক্ত শিক্ষিকা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে ফেলেন। বিধায় স্কুলের অনিয়ম দুর্নীতি ও চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কোন সুরহা হয়নি । আর এভাবে চলতে থাকলে একসময়ের স্বনামধন্য সরকারি স্কুলটি শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে দ্রুত বন্ধের উপক্রম হতে পারে বলে জানান স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ।

Download Photocard

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost