টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কার্যত পানির নিচে তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচু এলাকার বাসিন্দারা।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, আকমল আলী সড়ক, পলিটেকনিক মোড়, লালদীঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়সহ বেশিরভাগ এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে।
নিচু এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। দোকানপাটে পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে পণ্যসামগ্রী।
চকবাজারের এক বাসিন্দা জানান, বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের পানি এক হয়ে গেছে। টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না, দুর্গন্ধে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আগ্রাবাদের এক গৃহিণী বলেন, রান্নাঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় সকাল থেকে পরিবারের সবাই শুকনো খাবার খেয়ে আছেন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, একই সময়ে সেখানে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ।
ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন, দীর্ঘ সময় স্টেশনে আটকে পড়েন। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেনটি আর কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ জানান, রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। যাদের যাত্রা বাতিল হয়েছে, তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে বৃষ্টির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply