বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়, বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঢাকার সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রাঙ্গণে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘দেশব্যাপী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাবের সভাপতি কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ জামান খান তুহিন, অ্যাবের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষিবিজ্ঞানী, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন,
রুহুল কবির রিজভী বলেন, পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় অ্যাবের উদ্যোগে বাস্তবায়িত পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, আমরা নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলছি, খাল-বিল ও পুকুর ভরাট করছি, কৃষিজমি দখল করে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করছি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই যদি আমরা সচেতন না হই এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
পরিবেশ দূষণের জন্য অপরিকল্পিত নগরায়ণকে দায়ী করে তিনি সরকারকে কৃষিজমি সংরক্ষণ, জলাশয় রক্ষা এবং অবৈধ দখল ও ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি ফলজ, বনজ বা ঔষধি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ সচেতন হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন,
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরে অতিথিরা বিএলআরআই প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। একই দিন দ্বিতীয় পর্বে সাভার ডেইরি ফার্ম উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, অ্যাবের উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মোট পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
Leave a Reply