শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া সমিতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে দুই সহোদর ভাই দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলাহীনতা চলছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুন অর রশিদ এবং তার ছোট ভাই বজলুর রশিদ একই প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক টানা চার দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ খালি। অন্যদিকে সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রশিদ প্রধান শিক্ষকের কক্ষেই বসে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ পাওয়া যায়। কয়েকজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে নিজেদের মধ্যে গল্প-আড্ডায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষক নিয়মিত ও সময়মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই ছুটির আবেদন রেখে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। পরিদর্শন এলে সেই ছুটির আবেদন দেখানো হয়। পরে বিদ্যালয়ে ফিরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দায়িত্ব পালনের তথ্য দেখানো হয়।
সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেছিলেন। তবে চার দিনের ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। তার ছুটির আবেদন এখনো সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছেই রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের সামনে কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা জানান, ভালো শিক্ষার পরিবেশ ও মানসম্মত পাঠদানের জন্য তারা দূরের খোয়াজপুর টেকেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে যান এবং প্রতিদিন অটোরিকশায় যাতায়াত করেন।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার চেয়ে রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেশি দেখা যায়। প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। এছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়েও বিভিন্ন সময় বিরোধ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রশিদ বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের কাজে জেলা শহরে ছিলেন। প্রধান শিক্ষক অফিস সহকারীর কাছে ছুটির আবেদন রেখে ঢাকায় গেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটি রয়েছে এবং কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার অনুমতি ছাড়া প্রধান শিক্ষকের ছুটি নেওয়া উচিত হয়নি। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রধান শিক্ষককে ছুটি দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, প্রধান শিক্ষকের কোনো ছুটির আবেদন অফিসে এসেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply