বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন এক যুবক। বিস্ফোরণের ফলে তার পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলারের কাছে ভালুকিয়া এলাকার একটি পাহাড়ি অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত যুবকের নাম শফিউল আলম। তিনি ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ কালুর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে নিজের কলা বাগানে কাজ করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় যান শফিউল আলম। কাজ করার একপর্যায়ে হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারের এমএসএফ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বেশ কিছু এলাকায় এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক স্থলমাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জীবিকার প্রয়োজনে সীমান্তের কাছে যাওয়া সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী যেসব এলাকায় স্থলমাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দাবি, শুধু সতর্কতা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অনেক মানুষ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত করেন।
এদিকে ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আহত শফিউল আলমের চিকিৎসা চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
Leave a Reply