বিশ্বকাপের মঞ্চে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে অবশেষে জয়ের দেখা পেল ২০১৮ সালের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল লুকা মদ্রিচের দল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল পানামার দাপটে। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। ২৩তম মিনিটে প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিল পানামা। আমির মুরিয়োর নিখুঁত ক্রস থেকে হোসে লুইস রদ্রিগেসের শক্তিশালী হেড ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ আঙুলের স্পর্শে ক্রসবারে পাঠিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে রক্ষা পায় ক্রোয়েশিয়া।
প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণও খুব একটা ধারালো ছিল না। যোগ করা সময়ে মার্তিন বাতুরিনার দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পানামার গোলরক্ষক। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ। পেটার মুসার পরিবর্তে মাঠে নামান আন্তে বুদিমিরকে। আর সেই বদলই এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত ফল।
ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিসিচের ক্রসে বক্সের ভেতর নিখুঁত ফিনিশিং করে জালে বল পাঠান বুদিমির। তার একমাত্র গোলেই এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পানামা। ৬৮তম মিনিটে পরপর দুটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করলেও আবারও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান লিভাকোভিচ। এরপর কর্নার থেকে কার্লোস হার্ভির হেডও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন এই গোলরক্ষক।
শেষ দিকে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি। ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।
এই জয়ে দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ক্রোয়াটরা। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পানামার।
ম্যাচটি আরেকটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ এদিন জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলেছেন, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
এখন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া। সেই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে তাদের নকআউট পর্বে ওঠার ভাগ্য। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জয় ক্রোয়েশিয়াকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর।
Leave a Reply