বিশ্বকাপে সাহসী লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে জর্ডানের। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২–১ গোলে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল আলজেরিয়া।
সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আলজেরিয়া। তবে রক্ষণাত্মক কৌশল আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে জর্ডান শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে।
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আসে প্রথম গোল। জর্ডানের নিজার আল রাশদান দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর আলজেরিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং সমতা ফেরানোর জন্য একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে তাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হয়। ৬২তম মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের নেওয়া কর্নার থেকে নধির বেনবুয়ালি চমৎকার হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এই গোলের পর ম্যাচের গতি পুরোপুরি আলজেরিয়ার দিকে চলে যায়।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে উত্তর আফ্রিকার দলটি। জর্ডানের রক্ষণভাগও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে। অবশেষে ৮২তম মিনিটে দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন আমিন গুইরি। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতে জর্ডানও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি তারা। বিশেষ করে গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আলজেরিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। কারণ এই জয় তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো জর্ডানকে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত বিদায়ের বেদনা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে জর্ডানের ফুটবলারদের।
Leave a Reply