প্রিয় দর্শক, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘এইচ’ গ্রুপে ফুটবল ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী ম্যাচ উপহার দিয়েছে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে। শুধু মাঠের লড়াই নয়, এই ম্যাচ আলোচনায় এসেছে এক অনন্য রেকর্ডের কারণে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দুটি দেশের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এই ম্যাচে।
দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজারের মতো। অর্থাৎ দুই দেশের মোট জনসংখ্যা মিলিয়েও ৪০ লাখের কম।
ম্যাচের শুরু থেকেই চমক দেখায় কেপ ভার্দে। ২১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কেভিন পিনা। সেই গোলে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের ইঙ্গিত পেতে শুরু করেন দর্শকরা।
তবে অভিজ্ঞ উরুগুয়ে দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে। ৪৪ মিনিটে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর গোলে সমতা ফেরে লাতিন আমেরিকার দলটি। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আগুস্তিন কানোবিও গোল করে উরুগুয়েকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধ শেষে মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি উরুগুয়ের হাতেই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে।
৬১ মিনিটে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মাতিয়াস অলিভেরা ও গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেন হেলিও ভারেলা। বল দখলে নিয়ে দূরপাল্লার শটে জালে বল পাঠিয়ে সমতা ফেরান তিনি।
আরও একটি বিশেষ তথ্য হলো, জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল হেলিও ভারেলার প্রথম গোল। সেই গোলই কেপ ভার্দের জন্য এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।
স্পেনের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্সের পর এবার উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকেও রুখে দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দে।
ছোট দেশের বড় স্বপ্ন—এই বিশ্বকাপে সেই গল্পই যেন লিখছে কেপ ভার্দে। আর ফুটবল যে শুধু জনসংখ্যা নয়, সাহস, পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাসের খেলাও—সেটাই আবারও প্রমাণ করল আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র।
Leave a Reply