ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, ধারালো চাপাতি, বাঁশের লাঠি ও হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নয়ারহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ের সামনে মাইক্রোবাস নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও ৫ থেকে ৬ জন পালিয়ে যান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার নয়ারহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. শফিউল আলম সোহাগ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- পটুয়াখালীর বাউফল থানার বড় ডালিমা এলাকার মো. রায়হান মাতুব্বর (২৬), টাঙ্গাইল সদর থানার অলুয়া তারিমি এলাকার মো. আলতাফ হোসেন (৪০) এবং লালমনিরহাট সদর থানার কর্ণপুর মোঘলহাট এলাকার মো. মোখলেসুর রহমান ওরফে মোখলেস (৩২)।
পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. শফিউল আলম সোহাগ ও এএসআই মো. আক্তার শাওনসহ পুলিশের একটি দল নয়ারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে আটক করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যান।
পরে আটক ব্যক্তিদের তল্লাশি করে রায়হান মাতুব্বরের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও একটি হ্যান্ডকাফ এবং আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে আরেকটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। মোখলেসুর রহমানের কোমরে গোঁজা অবস্থায় পাওয়া যায় কাঠের বাটসহ প্রায় ১২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ধারালো চাপাতি। এ ছাড়া ঢাকা মেট্রো-চ-১২-০১০০ নম্বরের সিলভার রঙের হায়েস মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে ৩০ ও ৩২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে এসআই মো. শফিউল আলম সোহাগ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, চাপাতি, বাঁশের লাঠি ও একটি হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছেন। পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন