রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় সভা করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে। ওই সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দলীয় বৈঠক করেন। সভা থেকে মনোহর বাদশা নামে একজনকে ইমাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল। এ সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, মসজিদকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা উচিত হয়নি। কেউ কেউ এটিকে মসজিদের আদব লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুরের হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, রাজনৈতিক সভায় সাধারণত বিভিন্ন দল নিয়ে সমালোচনা হয়, যা গিবতের পর্যায়ে পড়তে পারে। তাই মসজিদের ভেতরে এ ধরনের সভা উপযুক্ত নয়। এছাড়া চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় বৈঠক করলে মসজিদের সৌন্দর্য ও মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, তারা সাধারণত মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করেন, তবে এ ধরনের সভা করেন না। তিনি জানান, মসজিদটি গ্রামের ভেতরে এবং তখন সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলেই সেটি ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদকে সমাজ পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয় আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা গ্রহণযোগ্য—সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
Leave a Reply