লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ড। মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক মেয়ে। অন্যদিকে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম, তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার। গুরুতর আহত হয়েছেন কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে শাহিনুর বেগম তার সন্তানদের নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তার স্বামী ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকেই তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
ঘটনার দিন সকালে এক যুবক বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার মেয়েদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিনুর বেগম ও ছোট মেয়ে শিফার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার মারা যান।
এ সময় আহত হন মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ওই যুবকের নাম অন্তর মজুমদার। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে আহত হন অন্তত ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সুপার আবু তারেক জানিয়েছেন, চারজনের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
একটি পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানি এবং আরেক সদস্যের জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কী কারণে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Leave a Reply