টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গার্মেন্টস কর্মী, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির পর রোববার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ, হারিনহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙ্গা মসজিদ, খাজারডেক, আনসার একাডেমি, চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ, নিশ্চিন্তপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, কলাবাগান, ডাইনকিনি, হরতকীতলা, মাওনা, দিঘিরপাড় বটতলা ও পূর্ব চান্দ্রাসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। এতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবের কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হারিনহাটি ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালগুলোর মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় দ্রুত পানি নামছে না।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ. এইচ. এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা অতিক্রম করেছে। ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
Leave a Reply