গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার হওয়ার সময় কভারভ্যানের ধাক্কায় জামাল হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয়রা এ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নিহত জামাল হোসেন উপজেলার মৌচাকের নিশ্চিন্তপুর এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি বাজারে ওষুধের ব্যবসা করতেন।
বিক্ষোভে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দ্রুত একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন শহিদুল ইসলাম, মাসুদ পারভেজ, আব্দুল আল মামুনসহ স্থানীয়রা। বক্তারা বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাসড়কের পাশে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের একটি প্রধান প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানার শ্রমিকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের ডিভাইডার টপকে সড়ক পারাপার হচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, কাছাকাছি একটি ফুটওভারব্রিজ থাকলেও সেটি বাসস্ট্যান্ড থেকে অনেক দূরে হওয়ায় পথচারীদের তেমন কাজে আসছে না। ফলে মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নতুন একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়রা আরও বলেন, গত কয়েক মাসে এ এলাকায় একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তারপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জামাল হোসেন মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি কভারভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে ঘাতক কভারভ্যানটি আটক করতে পারেনি পুলিশ। বিক্ষোভের খবর পেয়ে কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন