অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমন দাবি করেছে সরকার-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, রোববার, ১৮ অক্টোবর, বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে নির্দেশের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার নিজের প্রেস কর্মকর্তার মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিযোগ করে আসছিলেন। তাঁর দাবি, অভিযানের সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী হয়ে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, অস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং কাউকে ভয় দেখানো বা গুলি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।
এদিকে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এখন পদত্যাগের নির্দেশের খবর নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মন্তব্য করুন