এ বছর দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদরা। তাদের মতে, বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

জি বাংলা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

তিনি জানান, বর্ষার পানি জমে থাকা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রমে ঘাটতি এবং মানুষের অসচেতনতা—এসব কারণ ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি এখন জেলা ও গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার একাধিক ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন একসঙ্গে সক্রিয় থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, ছাদ, টায়ার, ড্রাম, এসির ট্রে কিংবা যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এজন্য ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশন—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}