স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংলাপ শুরু হয়ে আগস্টের মধ্যে তা শেষ হতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংলাপ আয়োজনের জন্য ইসি সচিবালয় শিগগিরই কমিশনের অনুমোদনের লক্ষ্যে ফাইল উপস্থাপন করবে।
বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিশূন্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্দলীয় এই নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেছে।
একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আচরণবিধি সংশোধনের কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হওয়ার পরই নির্ধারণ করা হবে কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অন্তত তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এর আগে সরকারের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হবে। বর্তমানে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক আচরণবিধির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এসব খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার সময়সীমাও সম্প্রতি শেষ হয়েছে।
রোববার নির্বাচন কমিশনের এক অনানুষ্ঠানিক সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরে কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ইতোমধ্যে হাতে এসেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অংশীজনদের মতামত এবং সরকারের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত হবে কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে।