গাজীপুরের শ্রীপুরে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং বিধবা বোনকে বসতঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পাঁচ বোন। রোববার (২০) (অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

শ্রীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংনাহাটি এলাকার বাসিন্দা মোছা. কামরুন্নাহার (৩৮) সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অভিযুক্তরা হলেন তাঁর ভাই মো. আনোয়ার মণ্ডল (৪৮), ভাতিজা মো. পলক মণ্ডল (১৮), ভাবি মোছা. শাহানাজ (৪৫) ও ভাতিজি মোছা. পায়েল (১৯)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে কামরুন্নাহার বলেন, তাঁরা পাঁচ বোন ও এক ভাই। পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছে। নিজেদের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ বুঝে পাওয়া নিয়ে তাঁরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কামরুন্নাহার বলেন, গত ১৮ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে পৈতৃক বাড়িতে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে তিনি অন্য বোনদের নিয়ে সেখানে গেলে ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

কামরুন্নাহার জানান, হামলায় তিনি নিজে, তাঁর বোন শাহানাজ, নূরুন্নাহার, শামরুন্নাহার, জেসমিন ও ভাগনি মিলা আহত হন। তাঁদের মারধর করা হয়। জেসমিনের ডান পায়ের উরুতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং ভাগনি মিলার কপালে হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নারীদের পোশাক টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিধবা বোন শাহানাজকে বসতঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া এবং ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুরের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। কামরুন্নাহার বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির বিরোধের কারণে তাঁদের পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, “আমরা পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা চাই। আমাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।”

এ ঘটনায় কামরুন্নাহার শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}