সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার এক দিন পর এবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার খবরে সৌদি আরবের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, রোববার, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়। সোমবার এ ঘটনার কথা নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ। তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা বিমান চলাচলে কতটা বিঘ্ন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেছেন, সৌদি আরামকোর শেদগুম গ্যাস স্থাপনা এবং তানাজিব তেল স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব স্থাপনায় হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলার জবাব দিতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। এরপর রিয়াদ ও দাম্মামসহ সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করে হুথিরা।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরে মোট ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আভা বিমানবন্দর, জিজান বিমানবন্দর ও নাজরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরে পাঁচটি এবং দাম্মাম বিমানবন্দরে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাকি হামলাগুলো আভা, জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।

পরপর এসব হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং সব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া এখনো বাকি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}