যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আবারও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান তদারককারী সংস্থা সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র, উপকূলীয় রাডার সাইট এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই জাহাজে হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্টকমের এই ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে মার্কিন হামলা হয়। এর জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।
সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। তখন ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারত না। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সার ও অন্যান্য পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের জাতিসংঘের অভিযানও স্থগিত করা হয়েছে। যদিও তেহরান এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে, তবে তাদের অনুমতি ছাড়া এ নৌপথ ব্যবহার না করার আগের সতর্কবার্তা বহাল রেখেছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সচল রাখতে ওমান একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বা আইএমওর সঙ্গে সমন্বয় করে চালু হওয়া এই করিডোর দিয়ে কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল করা যাবে। ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করিডোর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে আইএমও ও সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}