বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানের সিনেমাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। অভিনয়গুণে হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও জনপ্রিয় তারকা।

আজ সোমবার, ১৭ আগস্ট, এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি। তবে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’ সিনেমায় অভিনয়ের পরই যেন বড় পর্দা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ নামেও ব্যাপক পরিচিতি পান। ‘আম্মাজান’-এর পর কেন আর কোনো সিনেমার শুটিংয়ে দেখা যায়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিমান ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন শবনম। তিনি বলেছিলেন, ‘আম্মাজান’ সিনেমার শুটিংয়ের পর আর কোনো স্টুডিওতে যাননি।

দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে যা দেখেছেন, তা নিয়েও মুখ খুলতে চাননি তিনি। এমনকি এফডিসি নিয়েও তার গভীর অভিমান প্রকাশ পেয়েছে। জীবনের দীর্ঘ সময় যে এফডিসিতে কাটিয়েছেন, মৃত্যুর পর সেখানে নিজের মরদেহ না নেওয়ার জন্য ছেলেকে বলে রেখেছেন বলেও জানান শবনম। তার ভাষায়, জীবিত অবস্থায় সম্মান না দিয়ে মৃত্যুর পর ফুলের মালা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা তিনি চান না। এফডিসিতে তার মরদেহ নিয়ে মায়াকান্নার সুযোগও কাউকে দিতে চান না। জীবনের শেষ সময়ে তাই কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতেই চান বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}