শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের লাউখোলা, চরগজনাইপুর ও সাববিশপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধমূলক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার সন্ধ্যায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেজাউল সিকদার ও তার সমর্থকদের সঙ্গে তমিসখা ও তার সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৬০ বছর বয়সী মান্নান সর্দার ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে দিদার সর্দার বাদী হয়ে বুধবার জাজিরা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, মামলা হওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার গভীর রাতে রেজাউল সিকদারের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয় ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র। কয়েকটি ভবনের ছাদও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় বাড়িঘর থেকে গরু-বাছুর, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, সংঘর্ষে জড়িত না থাকা নিরীহ পরিবারগুলোর বাড়িতেও হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকায় নারী ও শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে এবং চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছে।

অন্য এক ভুক্তভোগী বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। এরপরও তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। তবে হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেজাউল সিকদার। তার দাবি, তার নেতৃত্বে এ ধরনের কোনো হামলা হয়নি। বরং সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কেউ কেউ নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে পরে লুটের অভিযোগ করেছেন।

জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ঠেকাতেও পুলিশ কাজ করছে। হামলা, লুটপাট বা চাঁদাবাজির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ এখন প্রতিশোধমূলক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে নতুন মাত্রা পেয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}