ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শিগগিরই হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা ভাবছেন তিনি। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। একই সঙ্গে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কখন বন্ধ বা খোলা হবে, সে সিদ্ধান্ত তেহরানই নেবে বলে দাবি করেছে ইরান।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে স্থানীয় সময় শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করার কথা জানান।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কৌশলগত পরাজয় মেনে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালীতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং কখন এটি বন্ধ বা খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।

এদিকে দুই দেশের উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে। কেপলার ডেটা অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ছিল না। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার পাঁচটি জাহাজ প্রণালীটি পার হয়।

অথচ আগস্ট মাসে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে। আর যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচল করত।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর করতে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের বাহিনী ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এ ছাড়া তিনটি জাহাজ অচল করা এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা।

ফলে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন শুধু সামরিক নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তারও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

একদিকে ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখছে, অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি আরও জোরালো করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের বড় প্রশ্ন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}