জামালপুরের বকশীগঞ্জে জমি রেজিস্ট্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে অফিসে নিয়ে মারধর, হত্যার হুমকি ও ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বকশীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দ্বিতীয় তলায় জমি রেজিস্ট্রির বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাদের কয়েকজনকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের বাদী মো. দুলাল মিয়া। তিনি অভিযোগে মো. সাহাজ উদ্দিন মাষ্টার, মো. আনিছ মিয়া, মো. পলকসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
দুলাল মিয়ার অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধের জেরে তার বড় ভাই বিলাল হোসেন ও বোন রুমি বেগমের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তাদের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রুমি বেগমকে ধাক্কা দেওয়া হলে তার কোলে থাকা শিশুর মাথায় আঘাত লাগে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন দুলাল মিয়া। এমনকি গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তার অভিযোগ।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এ সময় সাক্ষীর শপিং ব্যাগে থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অভিযুক্ত আনিছ মিয়া নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখানো ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলায় কয়েকজন আহত হলে তাদের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার পর দুলাল মিয়া বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
শুক্রবার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চান। পাশাপাশি তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}