বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় মোট ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা কম। ফলে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও পাঠদান—উভয় দায়িত্বই সামলাতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে অধিকাংশ সময় ব্যয় করতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান সম্ভব হয় না। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ায় অন্য শিক্ষকরা তাঁর নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, অবসর, বদলি এবং মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের এসব পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}