দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতই আওয়ামী লীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের দায় কতটুকু, তা তদন্ত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়। দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ধারাবাহিক ফলই এই অভ্যুত্থান। তাই জুলাইকে নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি না করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, সংবিধানের প্রতিটি সংশোধনীই একটি সংস্কার। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যখন গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখনই সহিংস আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে নিয়েও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় হয়েছে, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি জানান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য কার্যকর হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বারবার মুক্তিযুদ্ধ বা গণঅভ্যুত্থান আসে না। তাই এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে ইতিহাসের কাছে সবাই দায়ী থাকবে।
function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}