কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষায়, “সবকিছু বিবেচনায় আমার কমনসেন্স বলে, তিনি ফিরে আসবেন।”
বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার পরিবারকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, শেখ হাসিনার বয়স, তাঁর রাজনৈতিক ইতিহাস এবং দলীয় ভবিষ্যৎ—সবকিছু বিবেচনায় তাঁর ধারণা, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। রুমিন ফারহানার মতে, বর্তমান সময়ে শুধু টেলিভিশনই গণমাধ্যম নয়; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যে কেউ বক্তব্য শুনতে পারেন। তাই কোনো ব্যক্তির বক্তব্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।
এ সময় তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, শেখ হাসিনার সরকার আমলে তারেক রহমানের বক্তব্যও আদালতের আদেশে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাঁর প্রশ্ন, যদি সেটি গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিকেও একইভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ছাত্রসংগঠনগুলোর ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি করায় স্থানীয় বিএনপি অনুষ্ঠানটি বয়কট করে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন এবং এই বাস্তবতা বিএনপিকে মেনে নিতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এনাম খাঁ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}