সম্প্রতি বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে,যা ২০২৬ শে তা আরো দ্বীগুন হয়েছে।

যদিও ২০২৩ সালে আগের বছরের তুলনায় ২৪শে কিছুটা কমেছিলো, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রযুক্তির অপব্যবহার, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যায় ডিভোর্সের হার ২০২২ সালে ১.৪ হলেও ২০২৩ সালে তা ১.১-এ নেমে আসে। তবে এটি এখনও ২০২১ সালের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকায় ডিভোর্সের সংখ্যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে ঢাকায় গড়ে প্রায় প্রতি ৪০ মিনিটে একটি ডিভোর্স নিবন্ধিত হয়েছে। একই বছরে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩ হাজারেরও বেশি ডিভোর্সের আবেদন জমা পড়ে।

সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ডিভোর্স বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটের অপব্যবহার; পরকীয়াজনিত সম্পর্ক বা বিশ্বাসভঙ্গ; স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি; অযৌক্তিক সন্দেহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস; একে অপরের প্রতি সম্মান ও সহনশীলতার অভাব; পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকসংক্রান্ত বিরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ; পরিবার ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা কমে যাওয়া।

এক পর্যয়ে জি বাংলা টেলিভিশনের এক প্রতিবেন কালে,বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি নিজে ডিভোর্সের কারণ নয়; বরং প্রযুক্তির দায়িত্বহীন ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, গোপনীয়তা, সন্দেহ ও মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা, নির্যাতন, অর্থনৈতিক অসাম্য ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্বও বিবাহবিচ্ছেদের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ দেখা দিলে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা, পারিবারিক কাউন্সেলিং গ্রহণ এবং একে অপরের প্রতি সম্মান ও আস্থা বজায় রাখা জরুরি। সচেতনতা, দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানো গেলে অনেক সম্পর্ক ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ডিভোর্স শুধু দুই ব্যক্তির সম্পর্কের সমাপ্তি নয়; এর প্রভাব সন্তান, পরিবার এবং সামগ্রিক সমাজের ওপরও দীর্ঘমেয়াদে পড়ে। তাই পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সময়োপযোগী পরামর্শ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}