অধিকৃত পশ্চিমতীরে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাতভর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিস্থাপনকারী সেটেলাররা। নাবলুসের কুসরা গ্রামে একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি এর দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ লিখে যায় তারা। একই সময়ে রামাল্লার আল-মুগাইর এলাকায় ফিলিস্তিনিদের একাধিক যানবাহনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নাবলুসের কুসরা গ্রামের মসজিদে হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন লেখা রেখে যায়, যার মধ্যে ‘প্রতিশোধ’ শব্দটি ছিল উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব রামাল্লার আল-মুগাইর গ্রামে সেটেলাররা ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। ফিলিস্তিনি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একদল সেটেলার একটি গ্রামের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। একটি গাড়ি গ্রামে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
এর আগে শুক্রবার পশ্চিমতীরের তেল গ্রামে সশস্ত্র সেটেলারদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, হামলার সময় এক ফিলিস্তিনি একজন ইসরায়েলির অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলিকে হত্যা করেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন।
ইসরায়েল নিহত ফিলিস্তিনিদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করলেও ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, তারা নিজেদের গ্রাম রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। অন্যদিকে সশস্ত্র সেটেলারদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে অধিকৃত পশ্চিমতীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা।
function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}