দোকানে ঝাল মুড়ি কিনতে গেলে নিজের বন্ধকী স্বর্ণের দুল তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানার কানে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণ করে নিজের বাড়িতে নিয়ে হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। খোঁজ পেয়ে উত্তেজিত জনতা ঝলমুড়ি বিক্রেতা ঘাতক সুমাইয়া খাতুনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি ও ইট দিয়ে পিটিয়ে থেতলে হত্যা করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা কাশিবাটি গ্রামে। ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। লাশ নেওয়ার পরে রাত ১০ টার পরে খুলনা বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহত স্কুলছাত্রী কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ও কাজলা কাশিবাটি গ্রামের আব্দুল লতিফের কন্যা।

গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুন একই গ্রামের মাদকাসক্ত আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। খবর পেয়ে থানার উপ পরিদর্শক সুমন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উত্তেজিত জনতার নিকট থেকে লাশ ২ টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রতিদিনের ন্যায় নিহত স্কুল ছাত্রী সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে স্কুলে গিয়ে ক্লাসরুমে ব্যাগ রেখে সামনে ৩ বান্ধবী মিলে সুমাইয়ার ঝাল মুড়ির দোকানে যায় ঝাল মুড়ি কিনতে। ওই সময় ফারজানার কানে দু,টি স্বর্ণের দুল দেখে ফারজানাকে দোকানে বসিয়ে প্লেটে ঝালমুড়ি খেতে দিয়ে বাকি দুই বান্ধবীকে স্কুলে পাঠিয়ে দেয়। দুই বছর আগে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া খাতুন স্বামীর মাদকের টাকা দেওয়ার জন্য নিজের কানের এক জোড়া দুল ফারজানার মায়ের (নাজমা বেগমের ) কাছেকাছে সুদে বন্ধক রাখে। সুদের টাকা না দেওয়ায় মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় সুমাইয়ার কানের দুল ছাত্রী ফারজানার মা নিয়ে নেয়। ঐ দুল পরে ফারজানা গত এক সপ্তাহ ধরে স্কুলে আসে এটা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে দুল পরার স্বাদ মিটিয়ে দিতে কৌশলে তাকে অপহরণ করে বাড়িতে নিয়ে যায় বলে এমনটাই জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সেখানে প্রথমে স্কুলছাত্রী ফারজানার হাত, পায়ে, মুখে কাপড় বেঁধে বাড়িতে নিয়ে ওয়ারড্রপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ওয়ারড্রপের মধ্যে রেখে দেয়। এরপর সুমাইয়ার ৩ বছরের শিশু কন্যাকে সাথে নিয়ে ভূমিহীন এলাকা চিংড়িখালি গ্রামে শশুরের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যায়। সেখানে নিজের শিশুকন্যা রেখে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে আছে। মাগরিবের পরে সন্দেহ বশত: তার বাড়ি তল্লাশি করতে চাইলে জনগণকে বাধা দেয়। এ সময় থানায় খবর দিলে থানা থেকে এসআই সুমন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে বাড়ি তল্লাশি করি ওয়ারড্রপের মধ্যে রশি দিয়ে ফারজানার হাত মুখ বাধা মৃত অবস্থায় জনতার উদ্ধার করে। সময় উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইট দিয়ে পিটিয়ে থেতলে সুমাইয়াকে হত্যা করে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে থানার অফিসার ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে এলাকায় মোতায়েন করে। ওই সময় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সুমাইয়াকে রক্ষা ওসি সহ ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এর আগে সকাল থেকে ফারজানা নিখোঁজ পর স্কুলে ব্যাগ থাকলেও সুমাইয়ার ব্যাপারে শিক্ষকরা কোন খোঁজ করেনি। স্কুল শেষে ফারজানা বাড়িতে না ফেরায় স্কুলসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মাইকিং শুরু করে। পরে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন জনের মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় রাতে মৃত অবস্থায় ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ প্রতিনিধিকে জানান খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}function PlayerjsAsync(){} if(window["Playerjs"]){PlayerjsAsync();}