ফজলে এলাহী মাকাম,জামালপুর
১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জামালপুর শহরে স্কুলের পাশেই ২৫ দিন ধরে অনবরত গ্যাস লিকেজ, আতঙ্কে ২শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

জামালপুর শহরে স্কুলের পাশেই ২৫ দিন ধরে অনবরত গ্যাস লিকেজ, আতঙ্কে ২শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী

জামালপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ এলাকায় সড়ক সংস্কারের সময় গ্যাস পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের। গত প্রায় ২৫ দিন ধরে সংস্কার কাজের স্থানে তিতাস গ্যাসের পাইপ ফেটে গ্যাস নির্গত হলেও পৌরসভা বা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে রয়েছে সড়কের পাশেই অবস্থিত মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ থেকে ৫ মাস আগে জামালপুর পৌরশহরের ৪ নং ওয়ার্ডে মুসলিমাবাদ এলাকার পরিচর্যা ক্লিনিক থেকে মুসলিমাবাদ জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১শত মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজটির ধীরগতির কারণে পথচারী ও এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত মাসের শেষের দিকে রাস্তা সমান করার উদ্দেশ্যে ভারী রোলার মেশিন চালানোর সময় রাস্তার তলদেশে থাকা তিতাস গ্যাসের প্রধান সংযোগ পাইপ লাইনটির দুটি স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়। ফাটল সৃষ্টির পরপরই সেখান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনাটি প্রায় ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষক ভাঙ্গা অংশটি মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। খোলা জায়গায় অনবরত গ্যাস লিক হতে থাকায় পুরো এলাকা জুড়ে অগ্নিকাণ্ডের তীব্র ঝুকি তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় পথচারীদের অসাবধানতাবশত ফেলা দেশলাইয়ের কাঠি বা সিগারেটের আগুন থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো, যে জায়গায় পাইপ ফেটে গ্যাস নির্গত হচ্ছে, তার একেবারেই গা ঘেষে অবস্থিত মুসলিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রায় দুই শত শিশু পড়াশোনা করতে আসে। অনবরত গ্যাস লিকের ফলে বাতাসে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিশুর শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতার ঝুকি বাড়ছে। পাশাপাশি যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এই শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয় বাসিন্দ ফারহান আহমেদ বাদল বলেন, এ রাস্তাটির কাজ করার সময় রোলার দিয়ে রাস্তার মাটি সমতল করার সময় রোলারের চাপে রাস্তার নিচে থাকা গ্যাসের পাইপ ফেটে গেছে। এরপর থেকেই এখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। প্রায় ২৫ দিন ধরে গ্যাস বের হলেও এটা এখনো ঠিক করা হয়নি। আমরা আতঙ্কে আছি, এখানে যে কোন সময় বড় ধরনের আগুন লাগতে পারে।

আঙ্গুর নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা অনেক আতঙ্কে আছি। এ রাস্তা দিয়ে মানুষ সিগারেট খেয়ে খেয়ে যায়। সিগারেটের আগুন থেকেও যে কোন সময় আগুন ধরতে পারে। বিশ্বাস না হলে একটা মেসের কাঠি ফেলে দেখেন। এখান দিয়ে এ লাইনের সব গ্যাস বের হয়ে যায়। ফলে আমরা বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ পায় না। আমরা এটা দ্রুত ঠিক করার দাবি জানাচ্ছি।

নিরব হোসেন (১১) নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এ রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায়, বিকেলে এখানেই খেলি। গ্যাসের কেমন জানি একটা গন্ধ বের হয়। মাঝে মাঝে গ্যাসের কারণে শরীর চুলকাই।

রাস্তা সংস্কারের সময় গ্যাসের পাইপ ফাটার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার সচিব মো: হাফিজুর রহমান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরে ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, যে স্থানে পাইপ ফেটে ছিলো ওই জায়গায় পানি ছিলো তাই ওটা এতদিন ঠিক করা যায়নি। আমরা আজ থেকে কাজ শুরু করেছি আশা করি কালকের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে।ফজলে এলাহী মাকাম,জামালপুর।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন