কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, সিনিয়র বন্ধু সাইফুল ইসলাম তুহিন মেসেজ পাঠিয়ে অপ্রতিমকে বাসা থেকে ডেকে নেন। পরে তাকে লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের দাবি, আইফোন দিতে বাধা দিলে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়। পরে তার আইফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের করা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। পরে তার বাসা থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ করে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply