ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা পাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন—এপিবিএন। এ লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালের ‘দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’-এর অধীনে গঠিত এপিবিএনকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই বিদ্যমান অধ্যাদেশটি যুগোপযোগী করে বাংলায় নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনটি জনমত যাচাইয়ের জন্য এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি রহিত করা হবে। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে এর আগে সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রমের হেফাজতের বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া আইন অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীর অধীন এপিবিএন একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
এপিবিএনের দায়িত্বও আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং সরকার ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার পাশাপাশি সন্ত্রাস, মাদক, মানবপাচার, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে এ বাহিনী।
এ ছাড়া দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করার বিধানও রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে প্রস্তাবিত আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি এবং প্রচলিত অন্যান্য আইন অনুসরণ সাপেক্ষে এপিবিএনের সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন আইন কার্যকর হলে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে এপিবিএনের সদস্যরা ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আরও সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও বিচারিক কার্যক্রমের জন্য বিশেষ আদালত এবং সংক্ষিপ্ত আদালত গঠনের বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে। এসব আদালতে বিচার পরিচালনার পদ্ধতিও আইনে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই আইন কার্যকর হলে জননিরাপত্তা, অপরাধ দমন ও তদন্ত কার্যক্রমে এপিবিএনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন আইনে দেওয়া ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এপিবিএনের তদন্ত কার্যক্রমের পরিধি কতটা বিস্তৃত হবে, তা আইনটির চূড়ান্ত বিধান ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
Leave a Reply