সাভারে মাত্র কয়েকদিন আগে ভাড়া নেওয়া একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ওই বাসাটি ব্যবহার করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবির সদস্যরা বোমা তৈরির কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য আরিফকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় অভিযান শুরু করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম—সিটিটিসি। এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একটি ব্যাগসহ আরিফকে আটক করা হয়। ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষভাবে লুকানো ছয়টি পাইপ বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান উদ্ধার করা হয়।
পরে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়ির তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমা, গান পাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৫টি পাইপ বোমা উদ্ধার করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বাড়িটির মালিক আব্দুল জলিলের কাছ থেকে চলতি মাসের ২ আগস্ট নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয় ওই পরিবার। পরদিন থেকেই তারা সেখানে বসবাস শুরু করে। বাসা নেওয়ার সময় নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন প্রথমে বাসা ভাড়া নিতে আসেন। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা জানান। একজন গাড়িচালক এবং শিশুদের পড়ানোর জন্য স্থানীয় একটি স্কুলে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তারা।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই বাসা থেকে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, সেখানে ‘বোমারু মামুন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। বোমা তৈরিতে দক্ষ হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তি সেখানে বোমা তৈরির কাজ তদারকি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার সংশ্লিষ্টতা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে জেএমবির আরও কেউ জড়িত আছে কি না, কিংবা ওই আস্তানায় কতদিন ধরে বোমা তৈরির কার্যক্রম চলছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Leave a Reply