ভারতের মুম্বাইয়ে বাজারে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে আটক করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ওই নারী ও তার স্বামী জন্মগতভাবে ভারতের নাগরিক এবং তাদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথি রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর নাম সাইদা ফকির। তার পৈত্রিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। কর্মসূত্রে প্রায় ২০ বছর ধরে স্বামী জুম্মান ফকিরের সঙ্গে নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন তিনি। তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।
খবর পেয়ে স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে সাইদার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে জমা দেন। পরিবারের দাবি, এসব নথি যাচাই করার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাত্র তিনদিন পর তাদের জানানো হয়, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ফোন করে নিজের দুরবস্থার কথা জানান সাইদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় পৌঁছানোর পর চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয় তাকে। পরে স্থানীয় একটি পরিবার তাকে আশ্রয় দেয় এবং খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করে।
বর্তমানে সাইদা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে দাবি পরিবারের। তিনি দ্রুত ভারতে ফিরে ১২ বছরের সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে চান।
এদিকে সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। একই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ—মাসুমও আদালতে অভিযোগ করেছে।
সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনাটি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সাইদার পরিবারের একমাত্র দাবি—নথিপত্র যাচাই করে তাকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে এনে স্বামী ও সন্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।
Leave a Reply