গাজীপুরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ব্যাটালিয়নের ২৮তম ব্যাচ সিপাহি (পুরুষ) পদের নিয়োগ কার্যক্রমের সময় প্রতারণার অভিযোগে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন লুৎফুর রহমান ও নুরুল ইসলাম। নিয়োগের দ্বিতীয় দিনে নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার এই বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে একাডেমি গেট থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের চাকরিপ্রার্থী মানিককে নিয়োগের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেছিল এই চক্রটি। ভুক্তভোগী মানিক মেডিকেল পরীক্ষায় বাদ পড়লেও চক্রটি তার ব্যাংক চেক, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং বাবা-মায়ের মূল এনআইডি কার্ড ফেরত না দিয়ে আটকে রেখেছিল। আটকের সময় তল্লাশি চালিয়ে প্রার্থীর কাগজপত্র, একটি ব্যাংক চেক, এনআইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধনের মূল কপি উদ্ধার করে আনসার ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে চাকরির প্রলোভনে দালাল ও প্রতারক চক্রের সঙ্গে টাকার চুক্তিতেও শেষ রক্ষা হলো না টাঙ্গাইলের মাহাবুব ওরফে তন্ময় রহমান আতিকের। মেডিকেল পরীক্ষায় বাদ পড়ার পর ক্ষোভে ও হতাশায় দালালের সাথে মুঠোফোনে বাগবিতণ্ডায় জড়ান তিনি। তবে বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে পারেননি মাহাবুব। আটক হওয়ার পর নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত এই তরুণ অন্যদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভুল স্বীকার করায় বয়স বিবেচনায় তার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
মেধা, যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে আনসার ব্যাটালিয়নের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার নিয়োগে কোনো দালালের স্থান নেই, কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। আটক দালাল ও প্রতারক চক্রের দুই সদস্যেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাই দালাল ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে নিজের অর্থ ও জীবন ধ্বংস না করতে সাধারণ মানুষ ও চাকরিপ্রার্থীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
Leave a Reply