জুলিয়া জাহান
১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নিজেই প্রস্তুত করে রেখেছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা

নিজেই প্রস্তুত করে রেখেছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা

ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি গ্রামের। আয়েশা বেগম ওই গ্রামের মৃত আয়নাল হকের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, স্বামীর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন আয়েশা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, তিন ছেলে তার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর আর খোঁজখবর নেন না। কিছুদিন ছেলেদের বাড়িতে থাকলেও বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেও চলে আসতে হয় তাকে।

পরে স্বামীর দেওয়া জমির ওপর একটি জরাজীর্ণ ঘর তুলে একাই বসবাস শুরু করেন তিনি। সেই ঘরের পাশেই নিজের হাতে একটি কবর তৈরি করে রেখেছেন আয়েশা বেগম। তার আশঙ্কা, মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো দাফনের দায়িত্বও নেবে না। তাই জীবদ্দশাতেই শেষ আশ্রয়টুকু প্রস্তুত করে রেখেছেন।

বৃদ্ধার ঘরটিও মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। নেই বিদ্যুৎ-সংযোগ। রাত কাটে অন্ধকারে। নিয়মিত খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয় তাকে। প্রতিবেশীদের দেওয়া সহায়তাই এখন তার বেঁচে থাকার প্রধান ভরসা।

কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়েশা বেগম। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করেছি। এখন কেউ একবারও এসে জিজ্ঞেস করে না, ‘মা, তুমি কেমন আছো?’ ঘরে পানি পড়ে, অন্ধকারে থাকি। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। আমার মৃত্যুর পর কী হবে, সেই চিন্তা থেকেই নিজের কবর বানিয়ে রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর হলো আমি একা থাকি। বর্ষার সময় এক হাটু পানি লাগে বাড়ির আঙ্গিনায়। মাছ-গোস্ত খাইনি অনেক দিন। ছেলেরা খোঁজও নেয় না। এখন প্রতিদিন মৃত্যুর দিন গণনা করছি। বিদায় নিতে পারলেই বাঁচি। এভাবে আর কত দিন বেচে থাকা যায় বলেন। যে সন্তানদের খেয়ে না খেয়ে বড় করলাম তারাই আজ আমাকে তাদের বোঝা মনে করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এলাকাবাসীদের বলা আছে, আমি মারা গেলে তারা যেন আমার দাফনটা করে দেয়। আমার সন্তানের উপর কোনো ভরসা নেই আমার। বেঁচে থাকতেই খোঁজ নেয় না, আর মারা গেলে তো তারা বেঁচে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে একাই বসবাস করছেন আয়েশা বেগম। এলাকার লোকজনই মাঝে মধ্যে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন। মৃত্যুর পর তাকে যেন এই কবরেই দাফন করা হয় এ কথাও তিনি স্থানীয়দের বলে রেখেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী বলেন, চাচি প্রায়ই বলেন, মারা গেলে তাকে যেন এই কবরেই দাফন করা হয়। তার ছেলেরা সবাই ব্যবসা করেন, আর্থিক অবস্থাও ভালো। কিন্তু কেউ মায়ের খোঁজ নেন না। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও উল্টো আমাদের সঙ্গেই খারাপ আচরণ করা হয়। এ বিষয়ে আয়েশা বেগমের তিন ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায় না।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্রীপুরে বিকাশের প্রায় ৩ কোটি টাকা ছিনতাই, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩

১

মহেশপুরে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

২

হিমাগারে আলু রেখে লোকসানের মুখে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা

৩

ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে দায় নিতে হবে গুপ্ত জামায়াতকে: শামা ওবায়েদ

৪

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি ও ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার

৫

ঝিনাইদহের বাঘাডাঙ্গা থেকে বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় ড. মাহফুজুর রহমান

৬

দেশে ফিরছে গ্রাম সরকার, প্রতি ওয়ার্ডে প্রধান, উপদেষ্টা ও ১৫ সদস্যের প্রস্তাব

৭

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩৪৯

৮

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ ঝড়ে ৮ হেক্টর ফলজ ও সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত

৯

ক্যাম্প ফায়ার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ট্যাপসের মধ্য দিয়ে  ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি

১০

রাজউকের চোখে ধুলা দিয়ে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ, নেই সেফটি নেট ও তথ্যসমৃদ্ধ সাইনবোর্ড

১১

একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক

১২

নতুন বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনি, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা

১৩

বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে

১৪

কালিয়াকৈরে জেলি পুশ চিংড়ি জব্দ, পরে ধ্বংস

১৫

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

১৬

রংপুরে একই পরিবারের চার হত্যা: দুই আসামির ডিএনএ মিলেছে আলামতের সঙ্গে

১৭

রাঙ্গাবালীতে ১৪০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

১৮

কোটচাঁদপুরে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এমপি মতিয়ার রহমানের মতবিনিময়

১৯

ধামরাইয়ে বাস-কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

২০