গাজা উপত্যকার চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি যে অবস্থান ধরে রেখেছিল, বর্তমান সরকার তা থেকে সরে এসে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
একটি নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের ভয়াবহ দুর্ভোগের বিষয়ে নয়াদিল্লি কার্যত নীরব রয়েছে। তাঁর মতে, এই নীরবতা শুধু নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
তিনি জাতিসংঘের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারি-এর একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে দাবি করেন, সেখানে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত এবং ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাও সমালোচনা করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেত্রী। তাঁর ভাষ্য, পর্যাপ্ত তথ্য, প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব সম্প্রদায় এই সংঘাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গাজা ইস্যুতে ভারত প্রায় সম্পূর্ণ নীরব থেকেছে এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শক্ত অবস্থান নেয়নি। তিনি সরকারকে ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক সুরক্ষার পক্ষে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সোনিয়া গান্ধীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস পররাষ্ট্রনীতিকে ভোটব্যাংকের রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
পুনাওয়ালার দাবি, ভারত গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বহুবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং নিয়মিত মানবিক সহায়তাও পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাও পেয়েছেন।
একই সঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সবসময় পররাষ্ট্রনীতির চেয়ে ভোটের রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার বিষয়ে দলটি কখনোই যথেষ্ট সোচ্চার হয়নি।
সব মিলিয়ে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান, অন্যদিকে সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দাবি—এই দুই অবস্থান এখন দেশটির রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
মন্তব্য করুন