রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৯:১২ অপরাহ্ন

জনস্বার্থে মেয়র পদ ফেরত চাই

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩
Untitled-1-samakal-63d17ad4df6cb

‘আমি খারাপ হলে শাস্তি দিক, জেলে নিক। তবে তদন্তে অনিয়ম খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাহলে আমি কেন মেয়র পদ ফিরে পাব না? আমার জনগণকে কেন বঞ্চিত করে রাখা হবে? জনস্বার্থে আমি জনপ্রতিনিধির চেয়ারটি ফেরত চাই।’ এভাবেই বলছিলেন গাজীপুরের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
তাঁর জিজ্ঞাসা, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া সিটি করপোরেশন কে চালাবেন? একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কীভাবে মেয়রের দায়িত্ব পালন করবেন? সেটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে মেয়রের পদ থাকার দরকার কী? জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, ভুয়া চিঠি দিয়ে তাঁকে মেয়রের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি অন্যায়, অমানবিক।

জাহাঙ্গীর আলম বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে আছেন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান কিরণ। তাঁকে জড়িয়ে বিস্তর অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি বলেন, কিরণের স্ত্রী ও সন্তানরা থাকেন আমেরিকায়। সেখানে তাঁর বাড়ি-গাড়ি আছে। এত টাকা পেলেন কোত্থেকে? অথচ তাঁর মাসিক বেতন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া আগের মেয়র প্রয়াত অধ্যাপক আবদুল মান্নানকেও নাস্তানাবুদ করেছিলেন কিরণ। আবদুল মান্নানের নামে একের পর এক মামলা করে ২৭ মাস জেল খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হয়েছিলেন। কিরণ আগে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন, এখন আওয়ামী লীগের।

টানা প্রায় ১৪ মাস মেয়র পদে নেই জাহাঙ্গীর আলম। এই সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দায়িত্বে না থাকায় গাজীপুর নগরবাসী নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি ইমান-আমলের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। অন্যায় কিছু করি নাই। তদন্ত কমিটিও অনিয়ম খুঁজে পায়নি। তাহলে কেন আমি পদ ফিরে পাব না?’ তিনি বলেন, ‘প্রায় পাঁচ লাখ নগরবাসী ভোট দিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা কে পূরণ করবে? অথচ নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়েও আমি সেই মানুষের জন্য কিছুই করতে পারছি না।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পাঁচ বছর পূর্ণ হবে সেপ্টেম্বরে। তাই আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আপাতত চিন্তা-ভাবনা নেই। আগে সুস্থভাবে বাঁচি, পরে নির্বাচন। এখন আমার অধিকারটা ফেরত চাই। মেয়রের দায়িত্বটা ফিরে পেয়ে জনগণের কল্যাণে নেওয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলো সম্পূর্ণ করাটাই এই মুহূর্তে আমার একমাত্র কাজ।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই গুঞ্জনের কোনো সত্যতা নেই। তা ছাড়া আজমত উল্লাহ খান পরাজিত হয়েছিলেন বলেই তো গতবার আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।’

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ওই বছরের ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয় তাঁকে। এরপর একই বছরের ২৫ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তাঁর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও গাজীপুরের কয়েকজন নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় দেওয়া আমার বক্তব্য এডিটের মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছে। তারপরও আমি মানুষ। মানুষই ভুল করে। আমিও ভুল করতে পারি। জানা-অজানা ভুলের জন্য ক্ষমাও চাইতে পারি। তাই আমার বক্তব্যে দল ও কোনো ব্যক্তি কষ্ট পেলে ক্ষমা চেয়েছি। দল আমাকে ক্ষমা করেছে। আমি ভবিষ্যতে সতর্ক থাকব। আমি ভবিষ্যতে একজন আদর্শবান রাজনৈতিক কর্মী হতে চাই।’
জাহাঙ্গীর আলম ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের স্বার্থ পরিপন্থি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে ক্ষমা পেয়েছেন। তবে ভবিষ্যতে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তা ক্ষমার অযোগ্য বিবেচিত হবে বলেও তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দল থেকে বহিস্কারের পর তিনি ওই পদও হারান।

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, রাজনীতিতে এখন আপনি নিঃসঙ্গ। দলের পদ-পদবিও হারিয়েছেন। ভবিষ্যতে গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে আপনার শীর্ষ পদে আসার সম্ভাবনাও নেই। এই পটভূমিতে কীভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন?- জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার মা। তিনি অবশ্যই আমাকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাই। সবাইকে নিয়েই দলীয় রাজনীতি করতে চাই। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী আমাকে যেখানে রাখবেন, আমি সেখানেই কাজ করব সানন্দে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর