মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

এবছরেই উৎপাদনে যাবে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৩
image-435635-1624577264

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে যান। পরে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্মেলনকক্ষে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এরপর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় সাংবাদিকদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেন, এবছরেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ৬০০ মেগাওয়াট। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণেই গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে গভীর সমুদ্রবন্দর। যেখানে ৮০ হাজার টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ভিড়বে এই সমুদ্র বন্দরে।

নসরুল হামিদ এমপি বলেন, আগামীর পরিকল্পনা নিয়েই বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিকল্পনা মোতাবেক বাস্তবায়ন হচ্ছে। আগামী ২০৩০ সাল বা তারপর কয়লা নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কিনা, করবে কিনা কিংবা না করলে কোন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে সেই পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটি কয়লা বিদ্যুৎ হবে কিনা এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরোদমে চালু হবে। এর জন্য সম্ভাব্যতা ও প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এখন বন্দর নির্মাণে জাপানের নিপ্পন কোই নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শক চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।

নসরুল হামিদ এমপি আরও বলেন, বন্দরের অনেক কাজ এগিয়ে নিয়েছে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি। বন্দরের জন্য যে চ্যানেল তৈরি হয়েছে সেটি ২৫০ মিটার চওড়া, ১৮ দশমিক পাঁচ মিটার গভীর এবং ১৪ দশমিক ৩ মিটার দীর্ঘ। এটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। বন্দরের জন্য চ্যানেল তৈরিতে বিদ্যুতের প্রকল্পের করা ২৫০ মিটারের সঙ্গে আরও ১০০ মিটার চওড়া চ্যানেল, পৃথক জেটি নির্মাণ ও কনটেইনার রাখার স্থান হলে গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ আরও অনেক সহজ হবে বলেও সাংবাদিকদের জানান প্রতিমন্ত্রী।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। যা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন করতে কাজও করে যাচ্ছি। স্থানীয় লোকজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মধ্যে যে ৫০টি বাড়ি উচ্ছেদ হয়েছিল এরই মধ্যে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিবারকে পুণর্বাসন করা হয়েছে। যেসব পরিবারকে এখনো পুণর্বাসন করা হয়নি তাদের দ্রুত পুণর্বাসন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই ধাপে বন্দরের কাজ হবে। প্রথম ধাপে একটি কনটেইনার টার্মিনাল এবং বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ হবে। চাহিদার আলোকে এটা আরও বাড়তে পারে। বন্দরের সঙ্গে চার লেনের একটি সড়ক নির্মাণ হবে, যেটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যুক্ত হবে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি সংস্থা জাইকা দেবে ১২ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা, সরকারের জোগান দুই হাজার ৬৭১ কোটি আর চট্টগ্রাম বন্দর অর্থায়ন করবে দুই হাজার ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

মাতারবাড়ি আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ। আশা করি, এই বছরের শেষের দিকে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের সোনারপাড়ার এসপিএম প্রকল্প পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি। সেখানে আধা-ঘন্টা প্রকল্প পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ৩ টার দিকে রওনা হন টেকনাফে।

প্রকল্প পরিদর্শনকালে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, শাপলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক চৌধুরী, ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার, কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম ছমিউদ্দিন, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মাস্টার রুহুল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নবীর হোসেন ভুট্টু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক সেলিম উল্লাহ সেলিম ও মাতারবাড়ি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত ইকবাল মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর